ভারতের রাজস্থানে এক নারী জেলা কালেক্টরকে ‘রিল তারকা’ বলে মন্তব্য করায় চারজন কলেজশিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা হলেন বারমের জেলার জেলা কালেক্টর টিনা দাবি। তিনি অল্প বয়সে প্রথম চেষ্টায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস কর্মকর্তা হওয়ায় পরিচিত মুখ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার বারমেরের মহারানা ভূপাল কলেজ (এমবিসি) গার্লস কলেজের বাইরে পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবি জানাতে জেলা কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে চান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, টিনা দাবি তাদের ‘রোল মডেল’। এই মন্তব্যে আপত্তি জানান বিজেপি-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, জেলা কালেক্টর তাদের কাছে রোল মডেল নন। তারা দাবি করেন, যদি তিনি সত্যিই রোল মডেল হতেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনতে নিজে আসতেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে রিল বানালেও শিক্ষার্থীদের দাবির দিকে নজর দেন না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর পুলিশ চারজন শিক্ষার্থীকে আটক করে। এর প্রতিবাদে পরে অনেক শিক্ষার্থী থানার সামনে জড়ো হয়ে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানান।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কুমার। তিনি জানান, কাউকেই আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চারজন ছেলেকে থানায় আনা হয়েছিল এবং পরে তাদের চলে যেতে বলা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা থানার সামনে জড়ো হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা সরে যান।
জেলা কালেক্টর টিনা দাবিও শিক্ষার্থী আটকের অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। ফি বৃদ্ধির বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে তাদের থানায় নেওয়া হয় এবং দুই ঘণ্টা পর তারা চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে, যা তার বদনাম করার চেষ্টা মাত্র।
এই ঘটনার পর টিনা দাবিকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ে। রাজ্যসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, এটি আমলাদের অসহিষ্ণু আচরণের আরেকটি উদাহরণ এবং এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এদিকে এবিভিপি এক বিবৃতিতে জানায়, মত প্রকাশের কারণে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হলে তা নিন্দনীয় এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। সংগঠনটি প্রশ্ন তোলে, মত প্রকাশ কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল, এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় তাদের পাশে থাকার কথা জানায়।