নিখোঁজের দুই মাস পর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ঢাকার নবাবগঞ্জের বাসিন্দা রেহেনা পারভিন (৩৭) এর লাশ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আমজাদ হোসেন (৬৪) ও পাপিয়া আক্তার (৩৬) নামে দুইজনকে আটক করা হয়।
শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহাম্মদ মুঈদ এক প্রেস ব্রিফিং এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার জানান, গত দুইমাস আগে নিখোঁজের পর অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ ও হাইকমিশন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেহেনা পারভিনের অবস্থান সনাক্ত ও উদ্ধারে তথ্য চেয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বার্তা পাঠান।
নিহত রেহানা পারভিন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পাতিলঝাপ এলাকার লেহাজ উদ্দিনের মেয়ে। ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০ বছর আগে রেহানা পাড়ি জমিয়েছিলেন অস্টেলিয়ায়। সেখানেই আওলাদ হোসেনকে বিয়ে করেন রেহানা। গ্রহণ করেন দেশটির নাগরিকত্ব। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জননী রেহানা বড় মেয়ে আহাদ নূরকে নিয়ে দেশে আসার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তজার্তিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অনুরোধে নিখোঁজ রেহানার সন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মা আইরিন আক্তার নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবং মামলার চার দিনের মাথায় শেষমেশ আশুলিয়ার মৌনদিয়া চৌরাপাড়া ননদের বাড়ির সেফটি ট্যাংকের আঙিনা থেকে উদ্ধার করা হয় রেহানা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ।
সংবাদ সম্মেলনে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ আশরাফুল আলম জানান, মূলত সম্পত্তির লোভে রেহানাকে অপহরণের পর খুন করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন।
এঘটনায় গত ৮ নভেম্বর নিখোঁজ রেহেনার মা আইরিন আক্তার বাদি হয়ে রেহেনার স্বামী আওলাদ হোসেনকে প্রধান আসামীকরে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের নামে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার চারদিন পর দোহার সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে ও ওসি শাহ্জালাল এবং এসআই নূর মোহাম্মদ খানসহ পুলিশের একটি চৌকশ দল অভিযান পরিচালনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় অভিযান পরিচালনা করে আমজাদ হোসেন (৬৪) ও পাপিয়া আক্তার (৩৬) নামে দুইজনকে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা ও লাশ গুমের তথ্য অনুযায়ী আশুলিয়ার নয়ারহাট মৌনদিয়া চৌরপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ রেহেনার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার আরও জানান, মূলত রেহেনা ও তার স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিলো। চলতি বছরের ৬জুন রেহেনা তার ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে আসে। একই মাসে তার স্বামী দেশে এসে তার শশুরবাড়ি থেকে কৌশলে রেহেনাকে আশুলিয়া নিয়ে হত্যা করে অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় লাশ মাটি চাপা দিয়ে গুম করে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যায়। এঘটনায় বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর নবাবগঞ্জ থানায় নিহতের পরিবারের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ। জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।