আসন্ন কোরবানি ঈদকে ঘিরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল প্রতারণায় মেতে উঠেছে বিভিন্ন চক্র। ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে তারা অবলম্বন করছেন নতুন নতুন সব কৌশল। এমনই এক প্রতারণার ফাঁদ চোখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। দেশের প্রতিটি মানুষকে ৭৯৯৯-৯৯৯৯ হাজার টাকা ঈদ বোনাস দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি সম্বলিত একটি পোস্ট ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ।
শুধু তাই নয়, প্রতারণার এ ফাঁদকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কখনো প্রধানমন্ত্রীর ছবি, কখনো বা গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করছে প্রতারক চক্র। বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই ভেবে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই বোনাস দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এবং তা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রলোভনে পড়ে বিকাশের ওয়েবসাইটের অনুকরণে তৈরি প্রতারকদের নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন এবং অর্থ খোয়াচ্ছেন তারা।
গত ৫, ৬, ৯, ১০ জুন সহ বর্ত মানে মেটার অ্যাড লাইব্রেরি পর্যবেক্ষণ করে ফ্যাক্টচেক গ্রুপ রিউমার স্ক্যানার দেখতে পায়, এ সময়ে ১২ হাজারেরও বেশি এমন বিজ্ঞাপন প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে। ‘বোনাস পেতে এখানে ক্লিক করুন (৩,৭০০ টি বিজ্ঞাপন চলমান রয়েছে)’, ‘টাকা পেতে প্রথমে এই পোস্টটি শেয়ার করুন তারপর নিচের লিংকে ক্লিক করে আপনার নাম ঠিকানা দিয়ে আবেদন করুন (৯২ টি বিজ্ঞাপন চলমান রয়েছে)’ আজ ফেসবুকে ঢুকতেই ১ বড় আপু মেসেজ দিয়ে বললো আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সবাইকে ৯,৯৯৯ টাকা করে উপহার দিচ্ছে বিকাশ কোম্পানী (৫৪ টি বিজ্ঞাপন চলমান রয়েছে)। কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে এই বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞাপন খুঁজে বের করেছে মুশান্না মুসায়েদ কম্পিউটার আইটি প্রতিষ্ঠান কি-ওয়ার্ড ইনভেস্টিকেশন ইউনিট।
কি-ওয়ার্ড ইনভেস্টিকেশনের প্রধান মো: সুমন বলেন, নারীদের নামে তৈরি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করা হচ্ছে, কিছু পেজে একটি ছবি ছাড়া আর কোন পোস্ট করা হয়নি, তিনি আরও বলেন, যে তথ্য গুলো দেখে সন্দেহ জনক মনে হওয়ায় সেগুলোর এক কপি পিডিএফ সংরক্ষন করে রেখেনছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পেজের তালিকা তৈরি করেছে তারা। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ পেজের অ্যাডমিনের অবস্থান ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ায় দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া অল্প সংখ্যক পেজের অ্যাডমিনের অবস্থান বাংলাদেশে এবং কেবল একটি পেজের অ্যাডমিনের অবস্থান ভারতে দেখানো হচ্ছে।
মুশান্না মুসায়েদ কম্পিউটার আইটি প্রতিষ্ঠান কি-ওয়ার্ড ইনভেস্টিকেশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতারকরা তিন ধরনের ডিজিটাল ব্যানার ব্যবহার করে এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করছে। প্রতিটি ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবির পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগো যুক্ত করা হয়েছে। অন্য তিনটি ব্যানারে বিকাশে ৭,৯৯৯ টাকা, ৯,৯৯৯ টাকা, উক্ত টাকার ক্যাশ ইন হওয়া মেসেজের স্ক্রিনশট ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্বস্ত (বিকাশ, নগদ, প্রথম আলো, আরটিভি ও ভুয়া কিছু লিংক) ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করে দিচ্ছে। এক বিজ্ঞাপনে দেশের অন্যতম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিংক প্রিভিউ হিসেবে দেখা যায়। তবে লিংকে প্রবেশ করলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিকাশের ওয়েবসাইটের অনুকরণে তৈরি নকল ওয়েবসাইটে।