সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামে মসজিদের ইমামের ওয়াজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দু’পক্ষের বিরোধ অবশেষে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ, মামলা-মোকদ্দমা ও এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৩ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তেলিকোনা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমানের ওয়াজ চলাকালে একটি মাসআলাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও শিক্ষক মাওলানা আল-আমীনের (৩৪) মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেও এর জের ধরে পরদিন ১৪ জুন শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা-মোকদ্দমা থানা ও আদালতে চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর একই বিরোধের জের ধরে সিরাজুল ইসলাম ও শিক্ষক মাওলানা আল-আমীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৮ অক্টোবর রোববার স্থানীয় তেলিকোনা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের আয়োজন করা হয়। ১ নম্বর কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. রফিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উপস্থিত সালিশি ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধটি মীমাংসা করা হয়।
পঞ্চায়েতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সালিশি ব্যক্তি জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হুরায়রা সাদ মাস্টার, ১ নম্বর চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বকুল, সালিশি ব্যক্তি মানিক মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য আছাদুল হক, ইউনূছ মিয়া, আব্দুল মালিক, আব্দুল গফুর ও ছৈল মিয়া।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মো. আব্দুস সোবহান, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাবেদ আলম কোরেশি, কলকলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস ছালাম, জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সোহেল আহমদ, ডা. মামুন মিয়া, যুবরাজ মিয়া, শিহাব উদ্দিন, আব্দুন নূর, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামরুজ্জামান, আলিফ মিয়া, মাওলানা কাওছার আলম, বিএনপি নেতা শিবলু মিয়া, আখলাকুল আম্বিয়া জিতু এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ তেলিকোনা গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
