বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের গাজীখালী এলাকায় অর্পিতা বিশ্বাস (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির বাথরুমের ভেতর অর্পিতা বিশ্বাসকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অর্পিতার বাবা-মা ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত অর্পিতার মা হাসি বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার জামাই সবুজ নেশাগ্রস্ত এবং সম্প্রতি তাদের বাড়ি থেকে সাড়ে তিন ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি হয়েছে। বিষয়টি অর্পিতা জানতে পেরে পরিবারের কাছে এ বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, এ কারণে অর্পিতাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর বাথরুমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
অর্পিতার বাবা বির্জন বিশ্বাসও তার জামাই সবুজের বিরুদ্ধে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্বর্ণালংকার চুরিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার ছেলেকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজিব আল রশিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের করা হত্যার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে।
