গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৬১৮ জনে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৫ জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রকাশিত এক ইনফোগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহত মিলিয়ে গাজায় মোট ফিলিস্তিনি হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৩ জনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে। উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি প্রাণহানি
আলজাজিরার ইনফোগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৬০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৯ জন।
পাঁচ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
আলজাজিরার প্রকাশিত অঞ্চলভিত্তিক মানচিত্রে গাজার উত্তরাঞ্চল, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এসব অঞ্চলের আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও জনবসতিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।
ইনফোগ্রাফিকে ব্যবহৃত তথ্যের উৎস হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানগুলো ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ।
দীর্ঘদিনের সংঘাত, ব্যাপক প্রাণহানি এবং মানবিক সংকটের মধ্যে গাজায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখনো চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
