ঢাকাSaturday , 7 November 2026
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জাতীয়
  6. জীবন যাপন
  7. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  8. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  9. ধর্মীয় রীতিনীতি
  10. পার্ক
  11. প্রশাসন
  12. ফিলিস্তিন
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিলাসী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্যাসিবাদ কোনো দল নয় সমাজের ভাইরাস – জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক
November 7, 2026 10:47 pm
Link Copied!

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতিও ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নয়, বরং এটি সমাজের জন্য একটি ভাইরাস, যার লক্ষণ সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

#New_Classic_Event_Management

ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নয়, বরং এটি সমাজের জন্য একটি ভাইরাস বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে। যারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতিও ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুনতে শুনতেই তাঁর জীবনের ৫৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু এ দিবস থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, তাঁরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রক্ষীবাহিনী প্রসঙ্গ

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ এসব সংগঠন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজ করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থানের ব্যত্যয় ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও অল্প সময়ের মধ্যে তৎকালীন সরকার জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে। তাঁর অভিযোগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আনসার বাহিনী থাকার পরও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী হিসেবে রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীকে উপেক্ষা করে রক্ষীবাহিনীর হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ও ভারী অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল।

রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বাহিনীটির সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা ছিল না। তাদের হাতে ৩৪ হাজার মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, একজন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া বিচারব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা এবং অবিচারকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।

বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও একদলীয় শাসনের সমালোচনা

শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে একদলীয় শাসনের পথ তৈরি করা হয়।

তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সবকিছু একজন নেতার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। বাকশালের সংবিধানে শেখ মুজিব জীবিত থাকা পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রধান থাকার বিধান রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তৎকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশে লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছিল। বিদেশ থেকে আসা ত্রাণসামগ্রীও যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য আট কোটি কম্বল আসার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষ কম্বল পায়নি উল্লেখ করে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেসব দেশের নেতারা সোনার খনি পেলেও তিনি পেয়েছেন ‘চোরের খনি’ বলে আক্ষেপ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

ইতিহাসে সবার অবদান স্বীকারের আহ্বান

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা কারও অবদানকে ছোট করে দেখার পক্ষে নই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে মারামারিতে আমরা নাই। যিনি ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেটা শুনেছি। আবার স্বাধীনতার পতাকা একজন তরুণ নেতা সেদিন উড়িয়েছিলেন। এটা এখন আর আলোচনায় আসে না। আ স ম আবদুর রব, তার নামটি কিন্তু কেউ বলে না। বললে নিজের ক্রেডিট চলে যায়।’

মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বের অবদানও যথাযথভাবে আলোচনায় আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, নিজের বা নিজের দলের কৃতিত্বের বাইরে অন্যদের অবদান স্বীকার করতে হবে। যার যেখানে অবদান রয়েছে, তাকে সেই স্বীকৃতি দিতে হবে। ইতিহাসকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জনগণের সংহতি

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সামরিক কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা, অপমান ও উপেক্ষা করার কারণে সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। তাঁর মতে, শুরুতে এতে সাধারণ মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না।

নিজের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে তিনি সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরদিন সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়েছিল। তবে জুমার নামাজের জন্য তিন ঘণ্টা কারফিউ শিথিল করা হয়।

সেদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জুমার নামাজ পড়তে বের হয়ে তিনি মসজিদ, বাড়িঘরের ছাদ ও রাস্তাঘাটে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি দেখেছিলেন। মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছিল।

তিনি বলেন, কারফিউর কারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় বের হতে পারেনি। তবে জুমার নামাজের সময় মানুষের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস থেকে জনসমর্থনের একটি চিত্র ফুটে উঠেছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ আগস্টের পর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে একের পর এক ক্ষমতার পালাবদল ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। পরে সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমান বন্দি ছিলেন। ৭ নভেম্বর ভোরে সিপাহিরাই তাঁকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, সেদিন সিপাহিরা ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে রাজপথে নামলে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়া সাধারণ মানুষ তাকবির ধ্বনি দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান এবং ফুল ছিটিয়ে দেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

জামায়াত আমিরের মতে, বিপ্লবটি সিপাহিরা করলেও সাধারণ জনগণ তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিল। এ কারণেই দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।

জিয়াউর রহমান ও পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের পর তিনি পর্যায়ক্রমে প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।

তবে ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেদিন গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে তখন নানা বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও এরশাদের শাসন

১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, তিনি গণতন্ত্রের সুরক্ষা দেবেন। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন।

জামায়াত আমিরের মতে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।

এরপর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে নয় বছর দেশ শাসন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলেও মানুষের বাকস্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার অধিকার সংকুচিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে তাঁকেও ক্ষমতা ছাড়তে হয়।

খালেদা জিয়ার সরকারকে সমর্থন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সরকার গঠনের জন্য বিএনপির পর্যাপ্ত আসন ছিল না। সে সময় দেশের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন নিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল।

তিনি বলেন, জামায়াত তখন স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা সরকারের সঙ্গে কোনো জোট বা রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সে যাবে না; বিরোধী দলেই থাকবে। সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার অর্থ সরকারের অংশীদার হওয়া নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের তৎকালীন নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল বলে জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিল, যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের ভোটের মূল্যায়ন হয়েছে, সেই পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তাঁর দাবি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবে সম্মত হননি। পরে ১৯৯৪ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী এ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদের শেষ সময় পর্যন্ত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার তা গ্রহণ করেনি। ফলে আন্দোলন, হরতাল ও রাজনৈতিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রাজনীতিতে সমঝোতা ও নমনীয়তার প্রয়োজন

রাজনীতিতে সমঝোতা ও নমনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আলোচনা-সমঝোতা এবং নমনীয়তা। রাজনীতিতে এ দুটি বিষয় না থাকলে রাজনৈতিক পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়ে এবং রাজনীতি জনগণের স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার নিজেরাই নির্বাচন আয়োজন করেছিল, যেখানে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। কয়েক দিনের জন্য সংসদ গঠন করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে দুঃশাসন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কাজ করেছিল।

তিনি বলেন, মানুষ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচতে চেয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল কথা বলার অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, চাকরির অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং নারী-পুরুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্য সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই চারটি সংবাদমাধ্যমও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আলোচনা সভায় ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

বিনা অনুমতিতে ডিএন বাংলা ডিজিটালের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি