ঢাকার দোহার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের প্রধান সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ফলে উপজেলা পরিষদে আসা সেবাপ্রত্যাশী জনগণ ও পথচারীকে চলাচলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। সড়কটি পানিতে ডুবে থাকায় সড়কের ছোটখাট গর্তের কারণে ছোটখাটো নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারী না রাখায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।
জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসা মো. শাহজাহানের সাথে কথা বলে জানা যায়, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসব্যাপী এ জলাবদ্ধতা থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অথচ উপজেলা পরিষদে রয়েছে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, প্রকৌশলী কার্যালয়সহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। এ সড়কটি ব্যবহার করেন উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে- নতুন উপজেলা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের নালা ভরে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তবে দ্রুতই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কে হাটু পানি জমে আছে। উপজেলার সব সড়কের পানি সরে গেলেও উপজেলা পরিষদ প্রধান সড়ক ডুবে আছে।
স্থানীয়রা জানান, এ অবস্থায় ফের বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের আবুল বাশার মোল্লাসহ অনেকে জানান, বৃষ্টি হলেই এ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দিনেও পানি সরতে পারে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা জনসাধারণের।
প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান ফজলুর রহমান এর নির্বাচনী এলাকায় ২০১৯-২০২৩ ইং অর্থবছরে রাস্তা উন্নয়নে ৩১ কোটি ২১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৬৯ কোটি টাকা, ব্রিজ নির্মাণ বাবদ ৩৭ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ বাবদ ১৩২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা, গ্রামীণ হাট-বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ ২৬ কোটি টাকা ও উপজেলা পরিষদ ভবনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কমপ্লেক্স ভবন ও ঘর নির্মাণ বাবদ ২২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কটি বৃষ্টি হলেই হাটুপানি জমে থাকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হানিফ মোর্শেদী বলেন, পূর্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে নালা নির্মাণ করে সমস্যা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবাশ্বের আলম বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে দোহার উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কটি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণের বাজেটে ব্যাপকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে। তা ছাড়া নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই পানি সরে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।