লালমনিরহাটে টি আর কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
লালমনিরহাট সদর আসনের জন্য বরাদ্দকৃত টিআর/কাবিটা প্রকল্পে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।প্রকল্পের অর্থ ছাড় করতে দিন ভর নানা নাটকীয়তা শেষে অর্থছাড়। লালমনিরহাট সদর আসনের জন্য গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্প (টিআর) বাবদ ৪৬টি প্রকল্পে ৪৯ লাখ ৫৭হাজার ৬৬৬টাকা এবং গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার বাবদ নগদ অর্থ প্রকল্প(কাবিটা)বাবদ ৩৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ১কোটি ১১লাখ ৬০হাজার ৯১৬ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়।লালমনিরহাট সদর ০৩ আসনের সংসদ সদস্য জি এম কাদেরের পক্ষে তার প্রতিনিধি জাহিদ হাসান দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে এসব প্রকল্প বন্ঠন করে দেন।প্রকল্পের প্রথম কিস্তির চেক সকল প্রকল্প চেয়ারম্যান বরাবর ছাড় দেওয়া হয়।এসব প্রকল্পের কাজের তদারকি করতে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মসিউর রহমান পরিদর্শনে গেলে ১০% উপর কোথাও কাজের বাস্তব অগ্রগতি পাওয়া না যাওয়ায়,প্রকল্প চেয়ারম্যানদের দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার বারবার তাগিদ দেন। ২০২১-২০২২অর্থ বছরে বরাদ্দ কৃত অর্থ ছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ৩০জুন কে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অর্থ ছাড়ের চাপ দিতে থাকেন।কাজ সমাপ্ত না করায় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মসিউর রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা মাসুম দিন ভর ফাইল আটকে রেখে দেন দরবার করেন।এদিকে চূড়ান্ত বিলের জন্য জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা রাজনৈতিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে অবগত করেন।সরকারের অর্থ লোপাট রুখতে শতভাগ কাজ বুঝে নিয়ে অর্থ ছাড়ের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।মঙ্গলবার (২৯জুন) টিআর কাবিটা প্রকল্পের অর্থ ছাড় না করার সিদ্ধান্তে দিনভর অনড় থেকে,গভীর রাতে নাটকীয় ভাবে অর্থ ছাড় দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা মাসুম,।২৯জুন রাত বারোটা পর্যন্ত হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এই অর্থ বছরের টাকা অনুমোদনের সময় সীমা বেঁধে দেন। সময় মতো ফাইলে স্বাক্ষর না হবার কারনে টিআর ,কাবিটার সকল প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি।ফলে বেশীর ভাগ প্রকল্পের টাকা ফেরত যাবার অনিশ্চয়তায় পড়ে।উন্নয়ন তহবিলের টাকা ফেরত চলে যাবে এই আশংকায় প্রকল্প চেয়ারম্যানগন ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা ক্যাম্পাসে ভীড় করলে অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে উপজেলা ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩০ জুন সপ্তাহের শেষ কার্য দিবস ও জুন ক্লোজিং হওয়া স্বত্বেও মন্ত্রনালয়ে বিশেষ অনুরোধে প্রকল্পের অবশিষ্ট টাকা ছাড় দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা জাকির হোসেন বলেন,এমপি মহোদয় গ্রামীন রাস্তাঘাট উন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ পাবার পর আমরা প্রকল্প জমা দেই,বৃষ্টির জন্য প্রকল্পের কাজ শতভাগ করা যাচ্ছে না,এদিকে ২৮ জুনের পরে ট্রেজারি কোন অর্থ ছাড় করবে না মর্মে আমরা বিল জমা দেই।কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রকল্প কর্মকর্তা বারবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ফাইল সই করার জন্য নিয়ে গেলে তিনি ফাইল ফেরত পাঠান।আমরা বার বার বলেছি প্রয়োজনে আমরা অর্থ ছাড়ের সম পরিমান ব্যাংক ড্রাফট জমা দেব,কাজ শেষ করে ব্যাংক ড্রাফট ফেরত নিব।কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের কথা না শুনে নির্বাহী কর্মকর্তা সময় ক্ষেপন করে উন্নয়ন তহবিল ফেরত পাঠানোর অবস্থা তৈরী করেন।শেষমেষ সকল প্রকল্পের টাকা ছাড় দিতে ফাইলে শেষ মুহুর্তে গভীর রাতে সই করেন। শেষ মুহুর্তে ফাইল সই করানোর কারনে ট্রেজারি অফিস অর্থ ছাড় করতে ব্যার্থ হন।উন্নয়ন বাজেটের টাকা এমন অনিশ্চয়তায় ফেলার কারনে আজকে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে,তিনি ফাইল সই করলেন ঠিকই কিন্তু সময় শেষ করে।এদিকে নানা নাটকীয়তার পর ফাইলে সই করে অর্থ ছাড়ের জন্য পাঠানোয় প্রশ্ন উঠেছে তবে কি অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ফাইলে দীর্ঘসুত্রতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কিনা।এ বিষয়ে টিএনওর বক্তব্য জানার জন্য বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি বর্তমানে বাহিরে আছি,এ বিষয়ে আমার বক্তব্য পড়ে জানাবো,তিনি আরও বলেন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে অর্থ ছাড় করা হবে।এর বাহিরে যাবার কোন সুযোগ নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।