পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দীর্ঘ বিলম্বের পর আবার শুরু হয়েছে। মূলত দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলেও বিরোধী দল ও সরকারি সদস্যরা বৈঠকে বসার কারণে তা বিলম্বিত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ডন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর অ্যাসেম্বলির অধিবেশন শুরু। তবে অধিবেশনে নেই ইমরান খান। অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর রাত ৯ টার পর ভোটাভুটি হতে পারে।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু করেন স্পিকার আসাদ কাইসার। জাতীয় পরিষদের কার্যতালিকায় চতুর্থ নম্বরে রয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব। তবে উপস্থিত নেই ইমরান খান। সরকারদলীয় সদস্যদের উপস্থিতিও কম দেখা গেছে।
এদিকে, ভোটের আগে ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ কাসিম খান সুরির বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব তুলেছে বিরোধী জোট। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব ৩ এপ্রিল বাতিল করেন তিনি, যা অবৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
ও বিষয়ে ইমরান খান তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন। যেখানে তার আইনজীবীরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যেতে পারে সরকার। এর সঙ্গে বিকল্প দিকগুলিও বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একটি পিটিশনের খসড়া তৈরি করেছে। ইমরান খানের বাড়িতেই পিটিশনের বিষয়গুলো নিয়ে ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।
অন্যদিকে ইমরান সরকারের তথ্য ও আইনমন্ত্রী ফওয়াদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের একটি অংশ দাবি করছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এছাড়া পাকিস্তানের বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আসাদ কাইজারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্থাবের উপর ভোটাভুটি করানোর দাবি জানান। ভোটাভুটির অনিবার্য ফলাফল আন্দাজ করতে পেরে ইমরান ইচ্ছাকৃত ভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটে বিলম্ব করাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
অর্থ ও পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে ৭ মার্চ ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধীরা। ২৫ মার্চ তা জাতীয় পরিষদে উত্থাপন করে ভোটের দিন ৩ এপ্রিল ঠিক করেন স্পিকার।
তবে ভোটে দিন এ অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দিলে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা।
এ অবস্থায় ৫ দিনের শুনানি শেষে অনাস্থা ভোট খারিজ ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এতে শনিবার নিতে হবে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট। এর আগে অধিবেশন মুলতবি করা যাবে না।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। পাকিস্তানে কোনো বিদেশি সমর্থিত সরকার মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি। এসময় অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জবাবে হতাশা জানান তিনি।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দুঃখ পেয়েছি। তবে আমি এটা পরিষ্কার করছি, যে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। আমি সম্মান করি এই সিদ্ধান্তের। তবে আফসোস হলো পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কোনো আলোচনাই হয়নি। ডেপুটি স্পিকার অ্যাসেম্বলি খারিজ করেছেন আর্টিকেল ৫ এর ওপর ভিত্তি করে। বহিঃশক্তির এতো বড় ষড়যন্ত্রের কোনো দলিল প্রমাণ আমলে নিলো না সুপ্রিম কোর্ট, এটাই আমার আফসোস।
অনাস্থা প্রস্তাব পাসে ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে ১৭২ ভোট প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।