জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি মজুত (এসপিআর) থেকে প্রায় অর্ধেক বাজারে ছাড়া হবে। মার্কিন সরকারের হাতে থাকা মোট এসপিআর ৫৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। এবারের ঘোষণায় এসপিআর থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল করে ৬ মাসে ১৮ কোটি ব্যারেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বাইডেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও ৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড় করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে এসপিআর থেকে বাইডেন প্রশাসন ছাড় করছে ২৬ কোটি ব্যারেল, যা পরিচালন সক্ষমতার বিচারে মোট এসপিআরের প্রায় অর্ধেক বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিষয়ক ভাষ্যকার র্যান্ডেল মোহাম্মদ।
এ সংক্রান্ত ঘোষণায় জো বাইডেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ইঙ্গিত করে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, টাংকি ভরার জন্য আমাদের পরিবারের বাজেট, আপনাদের পরিবারের বাজেট কোনোটাই একজন একনায়কের যুদ্ধ ঘোষণার উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আমাদের এখানে দাম বাড়ছে পুতিনের কর্মকাণ্ডের কারণে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। আসল কথা হলো, গ্যাসের দাম কমাতে হলে এ মুহূর্তে আমাদের আরও তেল সরবরাহ থাকা জরুরি।
তেল ছাড়ের ঘোষণার পাশাপাশি বাইডেন যেসব কোম্পানি মার্কিন ফেডারেল সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নিয়েও উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে না সেসস কোম্পানিকে শাস্তি দেওয়ার আইন প্রণয়নের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা বন্টন, পে-আউট, বাই-ব্যাক অনেক হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মনে রাখা জরুরি যে শেয়ারহোল্ডার ছাড়াও নিজেদের ক্রেতা, বৃহত্তর সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের মালিকানাধীন ভূমিতে তেল আহরণের ৯ হাজার পারমিট অব্যবহৃত রয়েছে। এ ধরনের অব্যবহৃত পারমিটধারী কোম্পানিগুলো ‘মজুতদারি করছে’ অভিযোগ তুলে জো বাইডেন এসব কোম্পানির উপর শাস্তিমূলক ফি ধার্য করার আহ্বান জানিয়েছেন
কয়েকটি তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা বাজার পরিস্থিতি যাই হোক উৎপাদন বাড়ানো হবে না এমন অবস্থান জানানোর পর বাইডেন এ শাস্তিমূলক আইন প্রণয়নের আহ্বান জানালেন।
এর আগে পাইওনিয়র অয়েল অয়েল কোম্পানির সিইও স্টক শেফিল্ড ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেছেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দেড়শ, দুইশ বা একশো ডলার যাই হোক, আমরা কোম্পানির গ্রোথ প্ল্যান পরিবর্তন করব না।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি কোম্পানিগুলোকে বড় হতে দেন, তাহলে বড় হওয়া সম্ভব। অবশ্য এ খাতের এখন বড় হবার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না।
এদিকে, আপতকালীন মজুত থেকে তেল ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম কমছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আগের দিন প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৭১ ডলার ছিল, যা সকালে কমে হয়েছে ১০৩ দশমিক ৪৫ ডলার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।