ধান নেই কিন্তু চাল আছে। আর এমন চালেই বাজার সয়লাব। ভোক্তা কিনে খাচ্ছেন উচ্চমূল্যে। গবেষক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোটা চাল মেশিনে ছেঁটে বাজারে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামে। অতিরিক্ত ছাঁটায় চালে কমে যাচ্ছে গুনাগুণ, অপুষ্টিতে ভুগছে মানুষ।
বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামে যে চাল বিক্রি হয়, তার কোনোটাই তা নয়। কারণ এ নামে কোনো ধানই নেই। তবে চিকন ও দেখতে চকচকে বলে প্রচলিত ধারণা, এটি বিশেষ জাতের চাল, তাই বাড়তি দামে কিনে খাচ্ছেন ভোক্তা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মিনি কিটস নামে ভারতীয় সরকার তাদের কৃষকদের সহযোগীতার জন্য একটি উদ্যোগ নেয়। এই নামই পরে হয়ে যায় মিনিকেট। মূলত বিআর, ব্রি, কল্যাণী, স্বর্ণা, গুটিস্বর্ণা, লাল স্বর্ণার চাল মেশিনে ছেঁটে মিনিকেট নামে চালানো হচ্ছে।
আর নাজিরশাইল প্রশ্নে কৃষিবিদেরা জানান, বহু আগে এ নামে ধান চাষ হতো, তবে এখন আর হয় না।
চাল ব্যবসায়ী নেতারাও স্বীকার করছেন, মুনাফার লোভে অনেকে মিনিকেট নাম ব্যবহার করছে।
এদিকে, গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ছাঁটাইয়ে কমে যায় চালের ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, আঁশ। এতে অভ্যস্তদের অপুষ্টিজনিত রোগের ঝুঁকি থাকে।
ব্যবসায়ীদের অনেকে বলছেন, ছোট মিল ও ব্যবসায়ীরা ধানের নামেই চাল বাজারজাত করত। বড় বড় কোম্পানিগুলো এ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বদলে যায় চিত্র। কারণ বড় কোম্পানিগুলো চাল বাজারজাত করছে মিনিকেট, নাজিরশাইলের মতো ব্র্যান্ড নামে।
এদিকে, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, মিনিকেট-নাজিরশাইল নামে ধান নেই, এ নামে চাল বিক্রি বন্ধে সরকার কঠোর হচ্ছে। আগামীতে চালের বস্তায় ধানের জাতের নাম লিখে বিক্রি করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।