বরগুনার আমতলী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক ও তাদের পরিবারগুলো। নারী শিশু থেকে শুরু করে কেউ ঘরে বসে নেই। গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর কৃষকরা বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করছেন। তবে গতবারের তুলনায় বাজারে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেশি থাকায় চাষাবাদে খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন বাদে বাকী ৬টি ইউনিয়নে কমবেশী তরমুজের চাষাবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া, সদর ইউনিয়নে বেশী চাষাবাদ করা হয়। চাওড়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নে ওই সকল ইউনিয়নের চেয়ে চাষাবাদ কিছুটা কম হয়। গত বছর ওই ৬টি ইউনিয়নে ১৯৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করা হয়েছিল। চলতি বছর ওই ৬টি ইউনিয়নে ৩৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫১০ হেক্টর বেশী জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
অপরদিকে গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় চলতি বছরও আরো বেশী কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। আমন ধান কাটা শেষ হওয়ার পরে কৃষকরা তরমুজের জন্য জমি চাষাবাদ করে বীজ বপন করেছেন। বর্তমানে বাজারে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেশী থাকায় কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। সরকারীভাবে ৫০ কেজি ওজনের ১ বস্তা টিএসপি সারের দাম ১১০০ টাকা হলেও বাহির থেকে ওই সার ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায় কৃষকদের কিনতে হয়েছে। যা বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশী। গত বছর বাজারে যে সকল বীজের মূল্য ছিল ২৫০০ থেকে ২৭০০ টাকা বর্তমানে সেই বীজ এক কৌটা (১০০ গ্রাম) বিগ ফ্যামিলি ৩০০০ টাকা, জাগুয়া ৩২০০ টাকা ও এশিয়ান বীজ ৩১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছর চলতি বছর কৃষকরা তরমুজ চাষে বেশী আগ্রহী হওয়ায় সুযোগে সার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে বেশি দামে সার ও বীজ বিক্রি করছে বলে এমন অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগী একাধিক কৃষক।
সরেজমিন উপজেলার আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এ সকল গ্রামের কৃষকরা মাঠের মাঠ তরমুজ চাষাবাদ করে বীজ বপণ শেষ করেছেন। পুরুষদের পাশাপাশি এ কাজে কৃষক পরিবারের নারী ও শিশুরাও কেউ ঘরে বসে নেই। বাম্পার ফলনের আসায় তারাও পুরুষের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে। কেহ পানি দিচ্ছেন আবার মাঠ পরিচর্যার কাজ করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে পর্যন্ত বিকেল পর্যন্ত তারা মাঠের কাজ করছেন। অনেকগুলো তরমুজের মাঠে ফুল ও ফলন ফলাও শুরু করেছে। আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ওই ফুল ফলের তরমুজগুলো বড় সাইজের হয়ে বাজারে বিক্রির জন্য তোলা হবে বলে কৃষকরা জানায়।
কুকুয়াহাট গ্রামের আলমগীর গাজী ও জুয়েল মৃধা জানায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর সার ও বীজের দাম অনেক বেশী। যা কিনতে আমাদের মতো কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তারা আরো জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের ন্যায় এ বছরও তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।
হলদিয়ার উত্তর রাওঘা গ্রামের কবির হাওলাদার বলেন, এই প্রথমবার ৭ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছি। এখন মাঠের পরিচর্যা করছি। ফলন নিতে শুরু করেছে। আশাকরি এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন পাব।
একই এলাকার কৃষক তোফাজ্জেণ মীর বলেন, গত বছর ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম বাম্পার ফলন পাওয়ায় এ বছর ১৪ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। আশাকরি গত বছরের ন্যায় এ বছরও তরমুজের ভালো ফলন পাব।
পশ্চিম গাজীপুর গ্রামের আলমগীর হোসন বলেন, বীজ ও সারের দাম অনেক বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষাবাদে খরচ একটু বেশী হবে। তিনি আরো বলেন, গত বছর এক কৌটা বিগ-ফ্যামিলি বীজ ক্রয় করেছি ২৭০০ টাকায় এ বছর ওই পরিমাণ বীজ কিনেছি ৩০০০ টাকায় এবং ১ বস্তা টিএসপি সার কিনেছি ১১০০ টাকায় বর্তমানে ওই সার কিনতে হচ্ছে ১৫০০ টাকায়।
উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, সরকারি দামেই আমরা সার বিক্রি করা করেছি। তবে গ্রামাঞ্চলের খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশী দামে বিক্রি করলে আমাদের কিছুই করার নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছিল। এ কারণে এ বছরও অধিক সংখ্যক নতুন নতুন কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। তরমুজ চাষিদের কোনো প্রণোদনা দিতে না পারলেও এ বছরও ৮টি প্রদর্শনী করেছি। তিনি আরো বলেন, কোনো ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকলে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।