ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহাজারি করে কান্না করছিলেন এক বাবা। সামনে এগিয়ে গিয়ে জানা যায়, ছাদ থেকে পড়ে ছেলের মৃত্যুতে তাঁর এই কান্না। রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার দুপুর ২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে দ্বিতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় মো. বাপ্পি (৫)।
বাপ্পির বাবা মো. স্বপন বলেন, ‘ছেলেটা এভাবে মরে যাবে বিশ্বাস করতে পারতেছি না। সকালেও কথা বইলা বাইর হইছিলাম। আর এখন পোলাটা আমার আগে চলে গেল। ওর আগে আমি কেন মরলাম না!’
শিশুর পরিবার সূত্র জানায়, ঘটনার পর দ্রুত শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় ইসলামিয়া হাসপাতাল, পরে সেখান থেকে আল করিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে বিকেল ৪টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুর মা হোসনে আরা বেগম জানান, তিনি বাসায় কাজ করছিলেন। পরে ছেলেকে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করলেও আসছিলে না। তিনি বলেন, ছেলেটা একটা রুটি খেয়ে বের হয়। বাসার পাশেই অন্য ছেলেদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। সেখানে একটি দুই তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যায়।
জানা যায়, নিহত বাপ্পির গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায়। তার বাবার নাম মো. স্বপন। বর্তমানে উত্তর যাত্রাবাড়ী ইসলামিয়া হাসপাতাল গলির আমজাদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত শিশুটি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।