বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) অপটিক্যাল ফাইবার লাইনে সমস্যা হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি ও অনলাইন অর্থ স্থানান্তর বা ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি সার্ভারের একটি মতিঝিলে ও অন্যটি মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিবিটিএ)। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার একটিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই চেক নিষ্পত্তি ও অনলাইন অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রয়েছে।
সূত্র জানায়, এর ফলে যে ব্যাংকের চেক ওই ব্যাংকে জমা দিলে নিষ্পত্তি হচ্ছে। কিন্তু এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকে জমা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এতে এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে নগদায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারি লেনদেনও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অনলাইনে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তরও করা যাচ্ছে না।
তবে এখন এগুলো কেউ করলে পরে যখনই সিস্টেম চালু হবে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলো নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তবে এখন চালু আছে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস। ফলে আন্তঃব্যাংক লেনদেন আংশিক চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিটিসিএলের লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অচিরেই এটি সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধ চালুর আগে ব্যাংক বন্ধ থাকবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চেক ও ইএফটির ক্ষেত্রে আগে থেকেই আদেশ দিয়ে রাখতে হয় কবে কোন সময় লেনদেন হবে।
সে হিসাবে ব্যাংক বন্ধের ঘোষণায় এ দু’টি সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে আবার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ দুটি পদ্ধতি দ্রুত সচল করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে লেনদেন ব্যাহত হয়েছে। সিস্টেমসে ঠিক করতে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাকির হাসান বলেন, চেক নিষ্পত্তি বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধের কারণে গ্রাহক কম থাকায় খুব বেশি অসুবিধা হয়নি। রোববারের মধ্যে সার্ভার সচল হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সার্ভার সচল করতে বুধবার বন্ধের দিন থেকে এখনো আইটি কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বুধবার থেকে সারা দেশে কাজ ও চলাচলে বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এর আওতায় প্রথমে ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা ছিল, তবে পরে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা ছিল। সকাল ১০টা থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়ে লেনদেন চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। আর ব্যাংক খোলা ছিল বেলা আড়াইটা পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকের তেমন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। আমদানি ও রপ্তানিসংক্রান্ত কাজ চলেছে। কেউ কেউ টাকা তোলা ও জমাও দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ব্যাংক খোলা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রতিটি ব্যাংকের উপজেলা শহরের একটি শাখা খোলা থাকবে রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার। সিটি করপোরেশন এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা, প্রধান শাখা জেলা শহরের প্রধান, বৈদেশিক মুদ্রায় অনুমোদিত ডিলার শাখা খোলা রাখতে হবে।
সীমিত পরিসরে খোলা বাংলাদেশ ব্যাংক : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান বিধিনিষেধের আওতায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সবগুলো শাখা অফিস। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লেনদেনে সহায়তা প্রদান, সরকারি লেনদেন নিষ্পত্তি করা, আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করা, রাজস্ব চালান জমা দেওয়াসহ সরকারি বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মুনাফা প্রদানের জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব বিভাগ ও শাখা অফিসগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন চলবে। তবে অফিস খোলা রাখা হবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। এ সময়ে সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে ব্যাংকিং সেবা ও অন্যান্য কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং, ফরেক্স রিজার্ভ এন্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, পেমেন্ট সিস্টেমস, ইনফরমেশন সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট, আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজমেন্ট, কমন সার্ভিস, নিরাপত্তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট শাখা ও ডেস্কগুলো সীমিত সংখ্যক জনবল দ্বারা খোলা থাকবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিসের ব্যাংকিং, ক্লিয়ারিং হাউজ, ক্যাশ কাউন্টার ও ভল্ট খোলা থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০টি শাখা অফিস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, রাজধানীর মতিঝিল ও সদরঘাট। এছাড়া ময়মনসিংহ, বগুড়া, খুলনা, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অফিস।
এসব শাখা থেকে গ্রাহকরা জরুরি প্রয়োজনে সরকারি বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে পারবেন। সরকারের বিভিন্ন ধরনের রাজস্বের চালান জমা দেওয়া যাবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা জমা ও তুলতে পারবে।
ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।