ঈদ-উল-আযহ এর দিন রাত ৯টা বেজে ২২ মিনিট। তাজউদ্দিন মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ড থেকে নেমে বাইরের দিকে রওনা হবার সময় এ দৃশ্য দেখলাম ইমার্জিন্সির সামনে। দাড়িয়ে বুঝার চেষ্টা করলাম কি হয়েছে। দুজন মহিলা নিথর দেহের পাশে দুজন মহিলা হতবাক দাঁড়িয়ে ছিল। তারা বুঝে উঠতে পারছেনা কি হয়েছে। একজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। খুব নরমালি উত্তর দিল "জানিনা কি অইছে, দুই তালাত্তে পাডায়া দিল, কইল ঢাকায় নিতাম"। জিজ্ঞাসা করলাম সমস্যা কি? মারা গেছে? উত্তরে আসল " কইতাম পারিনা। হেরা তো কিছু কইল না, কোন ডাক্তার দরল না, কতবার অক্সিজেন চাইলাম দিল না"
আমি আর কথা বাড়াইনি।চুপ হয়ে চলে আসছি।লোকটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল সকালে বমি,কাশি আর শ্বাসকষ্টের জন্য।পরিবারের লোক অনেক চেষ্টা করেও অক্সিজেন দেয়াতে পারেনি।চলে আসার আগে মাথায় হাত দেয়া মহিলাটি কারো সাথে যুক্তি পরামর্শ করছিল প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যাবে কিনা! আমি আর বলিনাই নিয়ে গেলেও লাভ নাই,সে ফিরে আসবেনা।বের হয়ে দেখলাম এক ছেলে কাদছে অনেক,মিলিয়ে নিলাম ওই ব্যক্তির ই ছেলে হয়তবা। রিকশা দিয়ে ব্যাক করার সময় দেখলাম সে ছেলেটিই শুয়ে থাকার লোকটির নাকের কাছে গিয়ে জানার চেষ্টা করছে বেচে আছে কিনা আর অসহায় হয়ে কাদছে।
ঈদের রাতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল,খারাপ লাগা ছাড়া কিছু করার নাই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।