বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বসতবাড়ির সীমানায় অনধিকার প্রবেশ করে রান্নাঘর ভাঙচুর, এক নারীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সুমিত্রা মন্ডল (৪৫) নামে এক ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগকারী সুমিত্রা মন্ডল উপজেলার পেড়িখালী (ফুল পুকুরপাড়) এলাকার বাসিন্দা এবং রমনি মন্ডলের স্ত্রী।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে একই এলাকার মিনতি মন্ডল (৫০), বিনা মন্ডল (৫২) ও চঞ্চলা শিকদারের (৭৫) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ ও ৩ নম্বর বিবাদীর নির্দেশে ১ নম্বর বিবাদী মিনতি মন্ডল তাঁদের বসতবাড়ির সীমানায় অনধিকার প্রবেশ করে রান্নাঘর ভাঙচুর করেন। এ সময় সুমিত্রা মন্ডল বাধা দিতে গেলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কিল, ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করেছেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, সুমিত্রার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সুমিত্রা মন্ডলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। এমনকি তাঁর স্বামীকে কুপরামর্শ দিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি ও সংসার ভাঙার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুমিত্রা মন্ডল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এখন ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।