জুলাই জাদুঘরের সেমিনারে বক্তারা: আত্মরক্ষা ও অস্ত্র উদ্ধারের নামে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি, ফৌজদারি আইনের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘আত্মরক্ষা’ ও ‘অস্ত্র উদ্ধারে গুলি’ করার একই পুরোনো স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত এক সেমিনারের বক্তারা।
তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো আত্মরক্ষা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রায় সমার্থক শব্দে পরিণত করেছে। এ ধরনের চর্চা দেশের বিদ্যমান ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্বে বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বিতর্কিত জাতীয় রক্ষীবাহিনী।
সেমিনারে মূল বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পরপরই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে ভীতিকর দুটি শব্দ ছিল ‘রক্ষীবাহিনী’ ও ‘বাকশাল’। আলোচকেরা এদিন রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন লোমহর্ষক ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে প্রচুর কাজ হলেও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শাসনকাল নিয়ে মানসম্মত গবেষণা ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের অভাব রয়েছে।
এহ্সান মাহমুদ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে হলে অতীতের ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে জানতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যেভাবে একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, চারটি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ষীবাহিনী গঠন করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল, সেসব ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এ ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা ও গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই সেমিনার সিরিজের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর পরবর্তী পর্বগুলোও ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।
সূত্র: আমার দেশ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।