যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবার ভোট হচ্ছে।
নির্বাচনের ফল কখন জানা যাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে রাজ্যভেদে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময়, ভোট গণনার পদ্ধতি এবং নির্বাচনী বিধিতে পার্থক্য থাকায় সব আসনের ফল একই সময়ে জানা যাবে না।
৩ নভেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৫টা) ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য রাজ্যের ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে।
ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে। তবে সব আসনের চূড়ান্ত ফল জানতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বুধবার কিংবা তার পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ভোট গণনার তথ্য প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে কোনো আসনের ফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে বিশেষ নির্বাচনী পদ্ধতি ও ডাকযোগে ভোট গণনার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলাস্কা ও মেইনে ভোটারদের পছন্দক্রমভিত্তিক ভোট গণনা পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে কয়েক ধাপে ভোট গণনা করতে হয়। আলাস্কায় ডাকযোগে আসা ব্যালটের ফলও কয়েক দিন পর প্রকাশ করা হতে পারে।
অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনে মূলত ডাকযোগে ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট পরবর্তী সময়ে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
অ্যারিজোনায় নির্বাচনের দিন জমা দেওয়া ডাকযোগের ব্যালটের স্বাক্ষর যাচাই করতে সময় লাগে। নেভাডায় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পোস্টমার্ক করা ব্যালট চার দিন পরও পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এসব কারণে রাজ্যগুলোতে চূড়ান্ত ফল পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ফ্লোরিডা, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে তুলনামূলক দ্রুত ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ওহাইওতে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে প্রথম ফল প্রকাশিত হয়েছিল। একই নির্বাচনে ফ্লোরিডায় স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫১ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়।
তবে দ্রুত ফল প্রকাশের বিষয়টি নির্বাচনের দিন ভোটের ব্যবধান ও গণনার পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে।
নির্বাচনের রাতেই অনেক আসনের ফল জানা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দল পাবে, তা নিশ্চিত হতে আট দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
কোনো আসনে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিংবা প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্গণনা হতে পারে। এ ছাড়া প্রার্থীরা আদালতেও নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। ফলে চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিজ নিজ সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতে রয়েছে। এ কারণে সব আসনের ফল ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।
সব মিলিয়ে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।