২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ঢাকার দোহার উপজেলার পাঁচটি কলেজের ফলাফল হতাশাজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬৩৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৭৩৪ জন। পাঁচ কলেজের সম্মিলিত পাসের হার ৪৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, দোহারের পাঁচটি কলেজের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে জয়পাড়া কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে, মাত্র ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে কোঠাবাড়ী কলেজ।
জয়পাড়া কলেজ থেকে ৩২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৪৩ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন শিক্ষার্থী। তাঁদের একজন ব্যবসায় শিক্ষা এবং অন্যজন মানবিক বিভাগের।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৬ জন, মানবিক বিভাগে ৯৪ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন পদ্মা সরকারি কলেজ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ৭৮১ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৩৫ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৩৬ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন। তাঁরা উভয়েই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২৫ জন, মানবিক বিভাগে ১৮৬ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৮০ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৯৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন শিক্ষার্থী। তাঁরা দুজনই মানবিক বিভাগের।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৬ জন, মানবিক বিভাগে ৩৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৭ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
পাঁচটি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার কোঠাবাড়ী কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র পাঁচজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। পাসের হার ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এ কলেজ থেকেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে দুজন, মানবিক বিভাগে দুজন এবং বিজ্ঞান বিভাগে একজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
পাঁচটি কলেজের সম্মিলিত বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৪৬ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩৩৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অন্যদিকে, মোট ছয়জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তিনজন এবং মানবিক বিভাগ থেকে তিনজন রয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায়, পাসের হারে ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে জয়পাড়া কলেজ। দ্বিতীয় অবস্থানে মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৪৫ দশমিক ২৫ শতাংশ)। এরপর রয়েছে বেগম আয়েশা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ (৪৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ) এবং পদ্মা সরকারি কলেজ (৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ)। সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে কোঠাবাড়ী কলেজ (২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ)।
তবে পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে পদ্মা সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বাধিক ৭৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৩৫ জন।
সব মিলিয়ে দোহারের পাঁচটি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে ৬৩৭ জন উত্তীর্ণ এবং ৭৩৪ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
সূত্র: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকাশিত ফলাফল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।