ঢাকার দোহার উপজেলায় স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আনোয়ারের (৩৭) বিরুদ্ধে।
২৯ অক্টোকর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের খাসিরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ পপি (৩৪) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মুকসুদপুর ইউনিয়নের খরিয়া এলাকার জিকির কারিগরের ছেলে আনোয়ারের সঙ্গে খাসিরটেক এলাকার আসেছ চৌকিদারের মেয়ে পপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আনোয়ার তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাস আগে পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন পপি।
স্বজনদের দাবি, একাধিকবার পপিকে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে পপির বাবার বাড়িতে যান আনোয়ার। একপর্যায়ে পপি তাঁর পাঁচ মাস বয়সী শিশুকে স্বামী আনোয়ারের কোলে দিয়ে পানি আনতে গেলে পেছন থেকে তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পপির পেটে একাধিকবার আঘাত করেন আনোয়ার।
পপির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত আনোয়ার। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় পপিকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও আঘাতের গুরুতর অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
পপির বোন স্বর্ণা ও চাচা দানেছ চৌকিদার এশিয়া বার্তাকে জানান, পপি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে। এ কারণে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান তাঁরা।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আনোয়ার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুস সালাম এশিয়া বার্তাকে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত আনোয়ার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। আনোয়ারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।