চট্টগ্রামের দুটি আলোচিত হত্যা মামলায় মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত। বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং চন্দনপুরায় জোড়া খুনের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পৃথক দুই আদালত এ আদেশ দেন। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাকলিয়া থানার হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত পাঁচ দিনের এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার হত্যা মামলায় মহানগর হাকিম মো. আলমগীর হোসেনের আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়ায় বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় গুলির ঘটনায় সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। ঘটনার দুই দিন পর তাঁর বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় রায়হান ও ইমনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ ভোররাতে নগরের চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার ধাওয়া করে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। এতে সরোয়ার বাবলার অনুসারী বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের অপরাধজগতে তাঁর নাম আলোচনায় আসে। একসময় রাউজানের বালুমহালে টাকা তোলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের সঙ্গে একসময় ম্যাক্সন ও সরোয়ার হোসেন বাবলার ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরে তাঁদের সঙ্গে সাজ্জাদের দূরত্ব তৈরি হলে ছোট সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান তাঁর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁদের মাধ্যমেই ইমন ওই গোষ্ঠীতে যুক্ত হন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে রায়হানের সহযোগী হিসেবে গোষ্ঠীর একটি অংশ পরিচালনার দায়িত্বেও ছিলেন ইমন।
গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাতাদের ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে। গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলির ঘটনায়ও ইমনের নাম আসে। চন্দনপুরায় জোড়া খুন, গত বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ডেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। পরদিন তাঁকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং একটি অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১২ আগস্ট হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলাতেও তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ দুটি হত্যা মামলায় আরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় চট্টগ্রামের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোতে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা এবং অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখবে পুলিশ। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।