ঢাকার নবাবগঞ্জে নিঃসন্তান চাচা মো. শাজাহানের সম্পত্তির ওয়ারিশানা দাবি করেছেন তাঁর ভাইপো আহমেদ জুয়েল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যে চাচি সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে জমি বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে সাহিদা বেগমের দাবি, স্বামীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিই তিনি বিক্রি করেছেন।
২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ২টায় নিজেদের ভবনের একটি অফিসকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ জুয়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মো. শাজাহান ও সাহিদা বেগমের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান নেই। ১৯৬৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। শাজাহানের সম্পত্তিতে নিজেদের ওয়ারিশি অধিকার রয়েছে দাবি করে তাঁরা বলেন, সম্পত্তির মালিকানা ও ওয়ারিশানা নির্ধারণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের অভিযোগ, প্রায় পৌনে সাত শতাংশ জমি সাহিদা বেগম ভোগদখলে রেখেছেন। গত বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জের কাশিমপুর এলাকার হযরত আলীর কাছে জমিটি সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। পরে সোমবার হযরত আলী জমির দখল বুঝে নিতে গেলে আহমেদ জুয়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন।
আহমেদ জুয়েল বলেন, জমির সীমানা নির্ধারণ, ভোগদখল ও ওয়ারিশানা দাবিতে তাঁরা আদালতে চারটি মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে জমিটি বিক্রি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁদের দাবি, সম্পত্তিতে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, সাহিদা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তাঁর স্বামীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বিক্রির চেষ্টা করলেও তাঁর দেবরের ছেলেরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সম্প্রতি নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান সাহিদা বেগম।
জমির ক্রেতা হযরত আলী বলেন, জমির কাগজপত্র এবং খাজনা-খারিজের নথি যাচাই করেই তিনি জমিটি নিবন্ধন করেছেন। জমির দখল নিতে গেলে কেউ বাধা দিলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
জমির প্রকৃত মালিকানা ও ওয়ারিশানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে বিরোধটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আহমেদ জুয়েল। এ বিষয়ে আদালতের মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা হলে বিরোধের আইনগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।