সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ২ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের বয়ড়াপাড়া এলাকার ২৬ নম্বর পূজামণ্ডপ, টুক্কা শাহার বাড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপে চলছে নানা আয়োজন। প্রতিমা দর্শন, পূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বেলকুচি উপজেলায় এবার মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। উৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
২৬ নম্বর পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির সভাপতি সেতু সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আনন্দ সাহা জানান, এবার দুর্গাপূজা উদ্যাপনে কোনো বাধা বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। সরকার থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়ায় পূজার আয়োজন আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ ভালো। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজার উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আটজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও দুজন নারী সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পূজা চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার অন্যতম উপলক্ষ। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্নভাবে উদ্যাপনের জন্য পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির সব সদস্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।