ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ২৮৮ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আদালতে জমা হয়নি। সর্বশেষ আদালত আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ারের সামনে বিজয়নগর পানির ট্যাংকের অভিমুখী সড়কে শরীফ ওসমান হাদিকে বহনকারী অটোরিকশায় গুলি চালানো হয়। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হাদি হত্যার ঘটনায় তাকে বহনকারী অটোরিকশাচালক কামাল সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি মারা যান।
হামলার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ডিবি মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল। তবে বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ নির্ধারিত ছিল। ওই দিন প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আদালত নতুন করে ৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।
অর্থাৎ, ২ অক্টোবর ২০২৬ হিসেবে হামলার ২৯৪ দিন এবং হাদির মৃত্যুর ২৮৮ দিন পার হলেও মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা হয়নি। ফলে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং চূড়ান্ত রায়ও হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।