ধর্ম-বর্ণ, জাতি ও সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার অন্যতম মহৎ দৃষ্টান্ত। সংকটে পড়া মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে প্রকৃত অর্থে মানবসেবা ও পরোপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো মানুষের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে শুধু তার প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সহায়তা করা মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভেদ কমিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
ধর্মীয় শিক্ষাতেও অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মে ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবা করা এবং অসহায়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসাকে মহৎ কাজ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবসেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আত্মতৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তি তৈরি হওয়া। কোনো ধরনের প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে অন্যের উপকার করার মধ্য দিয়ে যে আত্মিক শান্তি পাওয়া যায়, তা মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ব্যক্তিগত পর্যায়েও মানবসেবায় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা, শীতকালে কম্বল বা প্রয়োজনীয় পোশাক বিতরণ, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা কিংবা সংকটে থাকা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সচেতন মহলের মতে, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৈষম্যহীনভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়বে এবং একটি মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।