ঢাকার নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরা শাহী (ভাঙা) মসজিদের সম্পত্তি ও আয়-ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করেছে মসজিদ কমিটি। এসব সংবাদের প্রতিবাদে শনিবার মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী।
২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাৎ বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নতুন বান্দুরা মৌজার সিএস ২৩৯ নম্বর খতিয়ানের ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর দাগে মোট ৪৪ শতাংশ জমি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরএস রেকর্ডেও ১৮৯ ও ১৯০ নম্বর দাগে একই পরিমাণ জমি মসজিদের নামে লিপিবদ্ধ হয়। পরে জমিটি মসজিদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মসজিদের জমির মালিকানা নিয়ে শফিকুল ইসলাম কালু ও তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। মসজিদ কমিটির দাবি, কালুদের পূর্বপুরুষ দুখাই দাইকে একসময় মসজিদের খাদেম হিসেবে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর দুই ছেলে মসজিদের জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তী আরএস রেকর্ডে জমি আবারও মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয় বলে দাবি কমিটির।
কমিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে গত বছর থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কালু পক্ষকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তাঁরা।
এদিকে, প্রতি সপ্তাহে মসজিদে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেছে মসজিদ কমিটি। তাদের দাবি, মসজিদের আয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয় এবং সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ওই হিসাব পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মসজিদের আয় থেকে মিনার নির্মাণ, অজুখানা, মহিলাদের নামাজের স্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা বলেন, কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সিএস-আরএস রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা, বিভিন্ন সমাজের মাদবর, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।