ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত মাত্র ৫০০ মিটার সড়ক। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিই এখন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও রোগীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যস্ততম এ সড়ক। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চাপে অনেকটা স্থবির হয়ে রয়েছে সড়কটি। যানজটের কারণে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক বাইপাস ও আঞ্চলিক শাখা সড়ক এসে প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এসব সংযোগস্থলে কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মিত নজরদারি না থাকায় বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন যত্রতত্র মূল সড়কে প্রবেশ করছে। ফলে সামান্য সময়ের মধ্যেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ সড়কের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক ও অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো। অভিযোগ রয়েছে, ব্যস্ততম এই সড়কের ওপরই গড়ে উঠেছে ইজিবাইক ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এতে সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে যানজট আরও বাড়ছে।
এ ছাড়া সড়কটির পাশেই রয়েছে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে সোম ও শুক্রবার এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে ওই দিনগুলোতে রোগী বহনকারী যানবাহনসহ অন্যান্য যানবাহনের চাপও বেড়ে যায়। এতে যানজটের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাত্র ৫০০ মিটার সড়ক অতিক্রম করতে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হয়। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনও এ ধরনের যানজটে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় যানজট নিরসনে সড়কের ওপর ইজিবাইক ও অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা এবং সংযোগ সড়কগুলোর যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।