তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬০০ জনের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
সোমবার একটি সুড়ঙ্গে উদ্ধারকারীরা প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তারপরও নিখোঁজদের উদ্ধারে আশা ছাড়ছেন না তারা।
নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বিবিসি নেপালকে বলেন, ‘আমি চাই আমরা তাকে খুঁজে পাই। আমি চাই সে বাড়ি ফিরে আসুক।’
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের সামরিক সদস্যদের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান চলছে। এতে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও অংশ নিয়েছেন।
নেপালের পাহাড়ি নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প ছিল নির্মাণাধীন।
উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোনোয় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। জীবন খাড়কা নামে এক স্বজন বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে, আমাদের আশা ততই শেষ হয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত হওয়া দরকার, কারণ আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।’
দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনেক সুড়ঙ্গের চিহ্নই এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার ভাষায়, পুরো এলাকা যেন ‘চাঁদের পৃষ্ঠের মতো’ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়ির চেয়েও বড় পাথর পড়ে আছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বন্যার স্রোতে ভেসে আসা বিপুলসংখ্যক মরদেহ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে নেপালের চিতওয়ান জেলা। নদীর স্রোতে সেখানে প্রায় ৩০০ মরদেহ এসে পৌঁছেছে। দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে সেগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া প্রায় ৯০০ মরদেহের মাত্র ৪ শতাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্ত করতে মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
বন্যার প্রভাব পড়েছে তিব্বতের অংশেও। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে বন্যার ছবি ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে চীনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অনলাইনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নেপালেও বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।