বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের উলুকাটা জোড়া ব্রিজ এলাকায় চুলা থেকে লাগা আগুনে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুটি বসতঘর।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রীসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা মো. রশিদ ফকিরের মেয়ে হালিমা বেগমের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ঘরের চুলা থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। পরে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে থাকা দাহ্য উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পানি ও বিভিন্ন উপায়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, চাল-ডালসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।