ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী। রহস্যজনক এ মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলেও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা।
২০২৫ সালের ৬ জুলাই ভোরে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মৃধাকান্দা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে রাস্তার পাশের একটি ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে ৫২ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন আজাদের মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে তাঁকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আমজাদ হোসেন আজাদ উপজেলার মৃধাকান্দা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের বড় ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে একটি অর্থসংক্রান্ত মামলায় আদালতের দেওয়া ১০ মাসের সাজা কার্যকরের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এছাড়া রাজনৈতিক ও জমি-সংক্রান্তসহ বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে একাধিক মামলা ছিল বলে সে সময় পুলিশ জানায়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়ির সদর দরজায় একাধিকবার নক করেন। শব্দ শুনে স্ত্রী মাহফুজা বেগম তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে দেন। পরে আমজাদ হোসেন আজাদ নিজেই দরজা খুলে বাইরে বের হন। তাঁর স্ত্রীর ধারণা ছিল, তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।
স্বজনদের দাবি, একই সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশের অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। আমজাদের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, ভোররাতের দিকে তিনি একটি পুলিশ ভ্যান, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং পরে পুলিশের পোশাক পরা একজনকে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখেছিলেন।
ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লিরা রাস্তার পাশের ধইঞ্চা ক্ষেতের কাছে তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে নানা আলোচনা ও হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
আমজাদের স্ত্রী মাহফুজা বেগম সে সময় বলেন, "আমি জানি না আমার স্বামী কীভাবে মারা গেল। আল্লাহর কাছে বিচার চাই।" তাঁর ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, "আমার ভাই রাজনীতি করত। তাঁর অনেক প্রতিপক্ষ ছিল। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, সেটি আমরা জানতে চাই।" বড় মেয়ে আশা আক্তার দাবি করেন, তাঁর বাবার মুখ ও চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল, তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেননি।
পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সে সময় নবাবগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আমজাদ হোসেন আজাদের বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁরা দাবি করেন, আমজাদ হোসেন আজাদ দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা ছিলেন এবং তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ তাঁর পরিবারের উদ্যোগে কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।