ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বান্দুরা গ্রামে চুরির অভিযোগে দুই তরুণীকে আটকে মারধর ও তাঁদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এক তরুণীর করা মামলায় বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২৯ জুন সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরাতন বান্দুরা গ্রামের মো. ইব্রাহিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া মারিয়া সুলতানা এবং তাঁর বান্ধবী শারিমন আক্তার (বন্যা খন্দকার)–এর বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। ২৯ জুন সোমবার সন্ধ্যায় ইব্রাহিম ও স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের আটক করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তাঁদের মারধর করা হয় এবং চুল কেটে দেওয়া হয়।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। একই সময় বাড়ির মালিক মো. ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী আয়শা আক্তারকে আটক করা হয়। রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষ থানায় অবস্থান করার পর মারিয়া সুলতানার দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মারিয়া সুলতানা নবাবগঞ্জ থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শারিমন আক্তার ওরফে বন্যা খন্দকার ঢাকার দোহার উপজেলার বটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জয়পাড়া বাজারের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে একটি বিউটি পার্লারের মালিক। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া, গত বছরের ২ জুন দোহারে মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় আটক হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে সাত দিনের সাজা দিয়েছিল।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী মামলা না করে দুই তরুণীকে আটকে চুল কেটে বেআইনি কাজ করেছেন। এ ঘটনায় তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।