চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুর মুখে পড়েছেন ঢাকার নবাবগঞ্জের এক যুবক। স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাইদ মোল্লা। তার জীবিত বা মৃত থাকার কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয় করে গত ৭ মে রাশিয়ায় যান সাইদ মোল্লা। সেখানে পৌঁছানোর পর চাকরির পরিবর্তে সাইদসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও এক রুশ নারীর প্রলোভনে পড়ে এসব বাংলাদেশি তরুণ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর সাইদ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। স্ত্রীকে শেষবার ফোনে তিনি বলেন, “বেঁচে ফিরবো কিনা জানি না, সন্তানের খেয়াল রেখো।”
সম্প্রতি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় কয়েকজন বাংলাদেশির নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। আহত এক ব্যক্তির পাঠানো অডিও বার্তায় সাইদ মোল্লা ও সোহেল নামে দুজনের উল্লেখ থাকায় পরিবারের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তবে এখনো সাইদের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনশক্তি রপ্তানিকারক জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকেই ওই বাংলাদেশিদের রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে মস্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ড্রোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য প্রায় তিন লাখ রুবলের চুক্তিতে গিয়েছিলেন। তবে তাদের এই রাশিয়া যাত্রার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো অনুমোদন ছিল না।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুশ নারী এলিনার সঙ্গে বাংলাদেশি যুবকদের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও প্রতারণার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশগামী কর্মীদের যাচাই-বাছাই ও তদারকিতে দুর্বলতার কারণেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত দালাল, এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কোনো খোঁজ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন সাইদ মোল্লার মা ও স্বজনরা। তাদের একটাই আকুতি—সাইদ জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক, আর যদি নিহত হয়ে থাকেন, তবে তার মরদেহ যেন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।