ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র বাহিনীর অতর্কিত হামলায় একই পরিবারের তিনজন নৃশংসভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়েছেন।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বাহ্রা চরকান্দা গ্রামের হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের ছেলে মোঃ রাকিবুজ্জামান (৪৬) বাদী হয়ে মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ থানায় ওসি মোঃ আবু হানিফ।
তিনি জানান, মামলায় এগারো জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বকসনগর ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ বটতলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন, মামলার বাদীর ছোট দুই ভাই রাব্বি (২৭) ও রুমেল বাবু (৪০) এবং ভাতিজা ইকবাল (২৮)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বিবাদীগণের সাথে বাদী ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বিবাদীগণ বেশ কিছুদিন ধরে ভুক্তভোগীদের ঝগড়াঝাটি ও মারধরের চেষ্টা করে আসছিল।
সোমবার রাতে বাদী রাকিবুজ্জামান, তাঁর দুই ভাই রাব্বি ও রুমেল বাবু কোমরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় তাঁরা কোমরগঞ্জ বটতলা সংলগ্ন পাকা রাস্তায় পৌঁছানো মাত্রই, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা বিবাদীগণ দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
এসময় তাদের ডাক চিৎকারে ভাতিজা ইকবাল এগিয়ে আসলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকেসহ তার ওই দুই চাচাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে ইকবালের সঙ্গে থাকা ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ হামলায় বাদী রাকিবুজ্জামানও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার পেটে সামান্য জখম হলে তিনিও চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন মনে করে তাঁদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এই হামলার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে নানা পাল্টা অভিযোগ তুলছেন।
এই বিষয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ক্ষোভ ও তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে হামলায় আহত একজন বলেন, এখন তো অনেকেই অনেক কথা বলবে। আমরা অপরাধ করে থাকলে পুলিশ তদন্ত করবে। তাই বলে কি কেউ অপরাধী হলে তাকে রাস্তায় এভাবে কুপিয়ে মারতে হবে? অপরাধীকে কি সাধারণ মানুষ সাজা দেবে? এই প্রশ্নের জবাব আছে আপনাদের কাছে? আমরা কি এমন অপরাধ করেছি যে আমাদের এভাবে মারতে হবে প্রশ্ন রেখে যান তিনি।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ ডিএন বাংলা-কে জানান, এ ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।