জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন—“লীগ সেদিনই ফিরে এসেছে…।” তার পোস্ট পড়ে মনে হয়, অনেকদিন পর যেন তিনি নিজের চারপাশের বাস্তবতা নতুন করে বুঝতে পারছেন।
তিনি তার লেখায় যে ঘটনাগুলোর কথা বলেছেন—মাজারে হামলা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা, গণমাধ্যমে আক্রমণ, উগ্রবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, মব সহিংসতা এবং ভিন্নমত দমন—এসব ঘটেছে এমন সময়, যখন দেশে অন্তর্বর্তী সরকার, প্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদ ছিল। কিন্তু তখন এসব ঘটনার দায় নেওয়ার মতো স্পষ্ট কেউ ছিল না।
সে সময় দেখা গেছে, এক জায়গায় মাজারে আগুন দেওয়া হচ্ছে, আর অন্যদিকে সেটাকে “জনতার আবেগ” বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। একজন সাংবাদিককে মারধর করা হলেও কেউ কেউ সেটিকে সামাজিক মাধ্যমে উপহাস করছে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনাও অনেকে “মানুষের ক্ষোভ” বলে যুক্তি দিচ্ছে। এতে মনে হচ্ছিল, দেশটি যেন সরকার নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় চলছে।
মাহফুজ আলম এখন বলছেন, আওয়ামী লীগ নাকি সেই সময়েই ফিরে এসেছে। দলটি সত্যিই রাজনীতিতে ফিরেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে তারা ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হলো কীভাবে—এটাই মূল প্রশ্ন।
যখন উগ্রবাদীরা প্রকাশ্যে শক্ত অবস্থান নিচ্ছিল, যখন মব সহিংসতা সাধারণ ঘটনায় পরিণত হচ্ছিল, যখন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা হচ্ছিল কিন্তু রাষ্ট্র শক্ত অবস্থান নিতে পারছিল না—তখনই মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়।
সাধারণ মানুষ আসলে খুব বেশি কিছু চায় না। তারা চায় নিরাপদ জীবন—রাতে ঘুমাতে গিয়ে যেন সকালে ঘর ধ্বংস হয়ে না যায়, মাজারে গিয়ে যেন হামলার শিকার না হতে হয়, আর ভিন্নমত প্রকাশ করলে যেন অপমান বা লেবেলিংয়ের শিকার না হতে হয়।
কিন্তু সেই সময় অনেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে এমনভাবে নিয়েছিল, যেখানে প্রতিপক্ষকে অপমান করাই হয়ে উঠেছিল প্রধান প্রবণতা। কেউ ভিন্ন মতের হলে তাকে দালাল বলা, কারও ওপর হামলায় উল্লাস করা, বা সহিংস ঘটনাকে সমর্থন করা—এসবই দেখা গেছে।
ইতিহাসের এক কঠিন ব্যঙ্গ হলো—যারা তখন সহিংসতার পাশে দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করেছিল, তারাই এখন সেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছে।
মাহফুজ আলমের এই পোস্ট তাই শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং এক ধরনের আত্মসমালোচনাও। যেন একজন চালক, বাস দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের বলছেন—রাস্তা অনেক বিপজ্জনক ছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।