বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উলুবুনিয়া এলাকায় সরকারি আবাসন প্রকল্পে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহিদ শেখ।
এসব অভিযোগ তুলে আবাসনের বাসিন্দারা ১৫ মে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলুবুনিয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পে মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মো. জাহিদ শেখ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।
অভিযোগে বলা হয়, আবাসনের বাসিন্দা মোসা. হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। একই এলাকার সালমা বেগমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৭ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সালমা বেগম তার ঘরের সামনে এসে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আবাসনের কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, মো. জাহিদ শেখ নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং আবাসনের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তারা জানান।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন নারী দাবি করেন, জাহিদ শেখের ছেলের বিরুদ্ধেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে আবাসন ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থাকা পরিবারগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিএনপির পদ ব্যবহার করে মো. জাহিদ শেখ সোনাইলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জাহিদ শেখ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, আবাসনের বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ এসেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।