সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আবারও বনদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৮ জন জেলে ও বনজীবী। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে নতুন করে এ ঘটনা ঘটায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের মুক্তির জন্য স্বজন ও মহাজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালীর চর এলাকায় মাছ ধরা ও মধু সংগ্রহের সময় বনদস্যুরা তাদের অপহরণ করে।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মীরগাঙ এলাকার নজরুল তরফদার ও আবদুর রহমান, ছোট ভেটখালী এলাকার আবদুল হামিদ মোড়ল, আটুলিয়া ইউনিয়নের আবদুল আলিম, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া খুলনার কয়রা উপজেলার আবদুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমানও অপহৃত হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণে যাওয়া বনজীবীদের লক্ষ্য করে বনদস্যুরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় তাদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মাহমুদা নদীর মাথাভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদের চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়। পরে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান বলে জানিয়েছে পরিবারগুলো।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অভিযোগ, বনদস্যু দমনে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান চললেও বাস্তবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। জীবিকার প্রয়োজনে সুন্দরবনে যেতে হলেও সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ জানায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অনেক সময় স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে নিজেদের উদ্যোগে সমাধানের চেষ্টা করেন। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।