দেশজুড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন কৃষকরা। গত ২৬ এপ্রিল বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৭২ জন মারা গেছেন, যাদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করা কৃষক। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সুরক্ষায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।
মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকায় গিয়ে সংগঠনটি শতাধিক কৃষকের মধ্যে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করে এবং নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশল শেখায়।
কৃষকদের জন্য এসএসটিএফ-এর দেওয়া তিনটি প্রধান নির্দেশনা হলো—
১. খোলা মাঠে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ দেখলেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
২. বৃষ্টির সময় কোনোভাবেই গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না।
৩. মাঠে কাজ করার সময় অবশ্যই পায়ে জুতা পরতে হবে।
সংগঠনটির প্রতিনিধি দল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে এসব পরামর্শ দেয়। এসময় তাদের মাঝে কোমল পানীয়, শরবত ও স্যালাইনও বিতরণ করা হয়।
সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলিম, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা।
বক্তারা কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। তাই আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে দ্রুত কাজ বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এসএসটিএফ-এর সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রয়োজন। এছাড়া মার্চ থেকে জুন—এই সময়টায় নিয়মিত বজ্রপাত সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ জানান, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে বড় গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলার বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, অনেকেই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়াকে নিরাপদ মনে করেন, যা ভুল ধারণা। পাকা স্থাপনার নিচে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।