মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম শহরের অন্তত ২০টি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবারের এই জলাবদ্ধতায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, জিইসি, চান্দগাঁওসহ অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। কোথাও সকাল ১১টা থেকে টানা ৮ ঘণ্টার বেশি পানি ছিল, আবার কোথাও ৬–৭ ঘণ্টা পরে ধীরে ধীরে পানি কমে। এতে রাস্তাঘাট, গলি ও দোকানপাট পানিতে ডুবে শহরের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
২৯ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে যান। এ সময় সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন। তারা পানি মাড়িয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তখনও ওই এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি ছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ বেশি বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় পানি জমলেও তা দ্রুত নেমে গেছে। তিনি জানান, তিনি নিজে যে পথে হেঁটেছেন সেখানে খুব বেশি জায়গায় পানি ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শহর পানির ওপর ভাসছে—এমন খবরের সঙ্গে তিনি একমত নন। তার মতে, সন্ধ্যার পর শহরের অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, হিজড়া খালের কাজ চলার সময় অস্থায়ী স্টিল কাঠামো বসানো হয়েছিল, যা ১৫ মের মধ্যে সরানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এই কাঠামো সরিয়ে খালটি পুরোপুরি চালু করা হবে।
এদিকে সংসদে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, শহরের মানুষ এখনো পানিতে ভুগছে এবং অনেক জায়গায় গলা পর্যন্ত পানি জমেছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন এবং জলাবদ্ধতা কমাতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম শহরে অন্তত ৪০ বার একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।