মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পার করিয়ে দেওয়ার নাম করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ দাবি করছে একটি প্রতারকচক্র। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে গ্রিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্ক।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে আটকে থাকা কিছু জাহাজ কোম্পানির কাছে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দাবি করে বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তায় বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট ফি বিটকয়েন বা টেথারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করলে জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে মারিস্ক স্পষ্ট করে বলেছে, এসব বার্তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যে ইরান প্রণালিটি ব্যবহার করতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ সুযোগেই প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মারিস্ক জানিয়েছে, বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকে আছেন। গত ১৮ এপ্রিল ইরান সাময়িকভাবে প্রণালিটি খুলে দিলে কিছু জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত শনিবার প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করা এবং ইরানি নৌযানের গুলির শিকার হওয়া অন্তত একটি জাহাজও এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছিল। তবে এসব বার্তার সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বার্তাগুলোতে বলা হচ্ছে, ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে নথি যাচাই শেষে বিটকয়েন বা ইউএসডিটি-তে ফি পরিশোধের পরই জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এ অবস্থায় জাহাজমালিক ও সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মারিস্ক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।