ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
৪ই এপ্রিল শনিবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন। শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মীম আক্তার (১৬)।
স্বজনদের মতে, হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ ও চুলের ক্লিপসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখে মরদেহগুলো শনাক্ত করা হয়। মর্গ এলাকায় স্বজনদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঞ্জু বেগম বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং কারখানার পাশেই থাকতেন। তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন জানান, মায়ের হাতে থাকা চাবির রিং দেখে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন এবং এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।
শাহীনুর বেগমের বাড়ি কালকিনি উপজেলায়। তাঁর বাবা আজিজ কাজী বলেন, চুলের ক্লিপ দেখে তিনি মেয়েকে চিনতে পেরেছেন।
মীম আক্তারের বাড়ি মুলাদী উপজেলায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাদের তিন বছরের সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আগুন লাগার সময় কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ ছিল, ফলে শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। তারা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আগানগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ইমাম উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিকেলে পুরোপুরি নিভে যায়। এ ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা ও কারখানা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।