মানিকগঞ্জে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের আইনজীবী প্রস্তুত থাকে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। জামিন পাওয়ার পর তারা আবার ভিন্ন নামে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
দুইটি প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী।
তিনি জানান, গত মাসের ২০ তারিখে শিবালয় থানার আসতিয়া পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলে এবং ২৩ তারিখে ঘিওর থানার অ্যাডভান্স অ্যাটায়ার কারখানায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ১৪ লাখ ও দেড় কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়। তদন্তে নেমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং লুট হওয়া মালামালসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
৩ই এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দুটি কারখানায় হামলা চালায়। তারা কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে, হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মোবাইল, কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ, ঢাকার আশুলিয়া এবং গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মাসুদ রানা, সাজেদুল ইসলাম (সাজিদ), সাগর প্রামানিক, আক্তার হোসেন, আল-আমিন, আবু বকর সিদ্দিক, বিল্লাল হোসেন ও আব্দুস সালাম।
পুলিশ জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে।
এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।