পদ্মা নদীতে স্নান করলে দেহ ও মনে একধরনের পবিত্র ও নির্মল অনুভূতি তৈরি হয়। মনপুরা চরে হাউজবোট থামিয়ে পদ্মার ঠান্ডা পানিতে নামলে মনে-প্রাণে গভীর শান্তি অনুভূত হয়। তীরে দৌড়ে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া বা গভীর জলে সাঁতার কাটা—এসব যেন শৈশবের স্মৃতিকে আবার মনে করিয়ে দেয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি থেকে এটি সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো একটি আনন্দময় দিন হয়ে ওঠে এটি। বিলাসবহুল হাউজবোটে পদ্মা নদী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যদি অন্তত একদিন নিশ্চিন্ত আনন্দ পেতে চান, তবে হাউজবোটে পদ্মায় ভেসে পড়তে পারেন।
ভ্রমণ মানেই ঘোরাঘুরি—এমনটাই বলেন সাহিত্যিকরা। ভ্রমণ পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। আর নৌভ্রমণ বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। বিলাসবহুল হাউজবোটে ভ্রমণ এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সারাদিন বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য এটি দারুণ একটি উপায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে হাউজবোটে ঘুরতে যেতে পারেন। ব্যস্ত জীবনে একদিনের জন্য হলেও সুখকে সহজ মনে হতে পারে।
ঢাকার কাছেই ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য পদ্মা নদীতে হাউজবোট ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিম চর থেকে মাওয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্যাকেজ ট্যুর চালু আছে।
সকাল দশটায় নারিশা পশ্চিমচর ঘাট থেকে বোটে ওঠার মাধ্যমে ভ্রমণ শুরু হয়। রোদেলা সকালে পদ্মার ছোট ঢেউয়ে সূর্যের আলো ঝিকমিক করে, যা মনকে আনন্দিত করে। নদীর ঠান্ডা বাতাস শরীর ও মনকে সতেজ করে তোলে। হাউজবোটের ছাদ সবুজ কার্পেটে ঢাকা, যেখানে বসে সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। খিচুড়ি, গরুর মাংস ভুনা, আলু ভর্তা, শশা ও লেবু দিয়ে নাস্তা পরিবেশন করা হয়। আয়োজকদের আন্তরিকতা সবার মন জয় করে। বোটে ওঠার পর থেকেই ছবি তোলার ব্যস্ততা শুরু হয়।
ধীরে ধীরে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় বোট পদ্মা সেতুর কাছে পৌঁছে। কিছু সময় সেখানে কাটিয়ে মনপুরা চরে গিয়ে বোট থামে। সেখানে নেমে সবাই পদ্মায় গোসল করে। পদ্মায় স্নানের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, তাই এই সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো। এরপর বোট ছাড়ার পর দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়—ইলিশ মাছ ভাজা, মুরগির ঝোল, সবজি এবং ঝাল চিংড়ির শুটকি। শেষে মিষ্টি দিয়ে খাবার শেষ হয়।
বিকালে পদ্মার নতুন জেগে ওঠা একটি চরে সবাইকে নামানো হয়। সেখানে খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপের সুযোগ থাকে। সন্ধ্যার আগে আবার বোটে ফেরা হয়। রাতের দিকে বোটের ছাদে মাছের বারবিকিউ আয়োজন ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
যেভাবে যাবেন—
রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দোহারগামী বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে নারিশা পশ্চিমচর যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। অনলাইনে “পদ্মা হাউজ বোট বুকিং এন্ড রিভিউ” লিখে খুঁজলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।