কেনিয়ার প্রধান বিমানবন্দর থেকে দুই হাজারের বেশি কুইন বা রানি পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ চুক্তির আওতায় এসব পিঁপড়ার বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ঝাং কেকুন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
তল্লাশির সময় তার লাগেজে বিপুলসংখ্যক জীবিত পিঁপড়া পাওয়া যায়, যেগুলো চীনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব দেননি। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি গত বছর কেনিয়ায় ধরা পড়া একটি পিঁপড়া পাচার চক্রের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন।
গত বছর কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস ইউরোপ ও এশিয়ায় ‘গার্ডেন পিঁপড়া’র বাড়তে থাকা চাহিদা নিয়ে সতর্ক করেছিল। ‘মেসর সেফালোটস’ নামে পরিচিত এই পিঁপড়াগুলো অনেক সংগ্রাহক পোষা প্রাণী হিসেবে রাখেন।
আদালতে একজন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছু পিঁপড়া টেস্টটিউবে ভরে রেখেছিলেন এবং বাকি পিঁপড়াগুলো টিস্যুপেপার রোলের ভেতরে লুকিয়ে লাগেজে রেখেছিলেন।
প্রসিকিউটর অ্যালেন মুলামা জানান, তার ব্যক্তিগত লাগেজ থেকে বিশেষ টেস্টটিউবে রাখা ১ হাজার ৯৪৮টি পিঁপড়া এবং টিস্যুপেপার রোলের মধ্যে লুকানো আরও প্রায় ৩০০টি জীবিত পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আদালতের কাছে সন্দেহভাজনের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চান।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের কর্মকর্তা ডানকান জুমা জানান, কেনিয়ার আরও কয়েকটি শহরে পিঁপড়া সংগ্রহের সন্দেহে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে কেনিয়ার একটি আদালত দেশ থেকে হাজার হাজার জীবন্ত রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা করার অপরাধে চারজনকে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৭ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করে। তাদের মধ্যে দুইজন বেলজিয়ান, একজন ভিয়েতনামি এবং একজন কেনিয়ান ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তারা অপরাধ স্বীকার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো বাস্তুতন্ত্র থেকে সরিয়ে নিলে মাটির স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব পিঁপড়া ইউরোপ ও এশিয়ার পোষা প্রাণীর বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। সূত্র : বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।