ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরব বিশ্বের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সবাইকে চমক দিয়েছেন। ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে হামলার ঘটনায় সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন প্রকাশ সচরাচর দেখা যায় না, বিশেষ করে যুদ্ধকালীন সময়ে। সাধারণত নেতারা তখন ‘অনুশোচনা’ জানান বা ‘দায়িত্ব নেওয়া’ এড়িয়ে যান। সেই দিক থেকে পেজেশকিয়ান ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখেছেন। তেহরানের হামলায় উপসাগর অঞ্চলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এ পদক্ষেপ দেশের ভেতরের কট্টরপন্থিদের ক্ষুব্ধ করেছে।
ভাষণে তিনি বলেন, “ইরানের পদক্ষেপে প্রভাব পড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি। ইরানের কোনো ইচ্ছা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ চালানোর নেই।”
তিনি আশপাশের দেশগুলোরকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ জানান।
এছাড়া ট্রাম্পের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বানকে তিনি ‘স্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দেন।
পেজেশকিয়ান জানান, তাদের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে, যতক্ষণ না তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের দিকে আক্রমণ হয়। এই মন্তব্য ইরানের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করে। পরে তার কার্যালয় জানায়, মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে হামলা হলে ইরানের সামরিক বাহিনী কঠোর জবাব দেবে।
এরপর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য আলি লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই।
রয়টার্স মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চেয়েও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।