মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ইরানকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তেহরান ও মস্কোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন।
হেগসেথ জানিয়েছেন, অঞ্চলের প্রতিটি সামরিক গতিবিধি ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও রাডার সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে তেহরানকে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে ক্রেমলিন। ইরান এই তথ্য ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলার ছক তৈরি করছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ চললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতি জানেন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত। মূলত রুশ সহায়তায় ইরানি হামলা ঠেকাতেই পেন্টাগন সর্বোচ্চ রণপ্রস্তুতি নিয়েছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যদিও সমবেদনা জানানো এবং সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে রাশিয়া এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আরও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কো ও তেহরানের এই ঘনিষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হেগসেথের কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, শত্রুপক্ষকে বড় বিপদে ফেলার লক্ষ্যেও প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে রাশিয়া-ইরানের ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে এবং পেন্টাগনের মনোভাব এই অঞ্চলে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।