যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় ইরানে অত্যন্ত নিখুঁত ও শক্তিশালী হামলা চালানো হচ্ছে। সোমবার (২ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।
অভিযানের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। সেখানে আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যভেদ করে ধ্বংস করতে দেখা যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, এসব হামলা ‘সার্জিক্যাল’ ও ‘ওভারহোয়েলমিং’ ধরনের।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরান গোপনে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ইরানের কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাস সময় লাগতে পারত।
তিনি আরও বলেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা চারগুণ বাড়িয়েছে এবং দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছিল। তবে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সমুদ্রবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড এআই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। সংস্থাটির তথ্যমতে, সংঘাতের দ্বিতীয় দিনে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ নামের একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হানা হয়। ঘটনাটি ‘এরিয়া ডিনায়েল’ কৌশলের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলতে চায় তেহরান। এছাড়া কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর লক্ষ্যেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে সোমবার মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেট প্রেসিডেন্ট চার্লস গ্রাসলিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সমুদ্রসীমায় মাইন পাতা সক্ষমতা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চাইলেও প্রয়োজন হলে অভিযান দীর্ঘায়িত হতে পারে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়নি এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।