সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি একান্ত সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে দৈনিক কালের কণ্ঠ। সাক্ষাৎকারটি নেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন। এতে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও সেই সময়কার নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
দুই পর্বে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকার দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেয়। বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমও কালের কণ্ঠের সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অংশ হায়দার আলীকে লক্ষ্য করে সমালোচনা শুরু করে। তাদের দাবি, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা বিষয় সামনে চলে এসেছে— আর সে কারণেই সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।
লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন— একজন সাংবাদিক রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিলে সেটি কি অপরাধ হতে পারে? তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের কাজ করতে দেওয়াই উচিত; ট্যাগিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণ সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, হায়দার আলী অতীতে একাধিক আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। যেমন— বেনজীরের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানী সিরিজ, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাচার ও প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে প্রতিবেদন, বিসিএসআইআরের এক কর্মকর্তার পিএইচডি জালিয়াতি উন্মোচন, গাজীপুরের বনভূমি দখল সংক্রান্ত অনুসন্ধান, এমপি পাপুলের আর্থিক কেলেঙ্কারি, জিকে শামীমসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন। এসব প্রতিবেদনের কারণে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা ও চাপের মুখেও পড়েছেন।
নাদিম মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী, তখন এসব অনুসন্ধানী কাজের জন্য হায়দার আলী প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু এখন রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তাকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে— যা একধরনের দ্বিচারিতা। তিনি বলেন, সাংবাদিকের দায়িত্ব প্রশ্ন করা এবং সাক্ষাৎকারদাতার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা। এতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও ট্যাগিং সংস্কৃতি অনেক সাংবাদিককে নিরুৎসাহিত করছে। কেউ কেউ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ছেড়েও দিচ্ছেন। একজন সাংবাদিকের কাজ ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি পরিচয় নিয়ে আক্রমণ সাংবাদিকতার জন্য অকল্যাণকর।
নাদিম মাহমুদের মতে, হায়দার আলী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার কাজের সমালোচনা হোক তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে— ব্যক্তিগত আক্রমণ বা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে নয়। একজন সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত— এটাই গণমাধ্যমের সুস্থ চর্চার অংশ।
সূত্র: লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট থেকে
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।