মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরগোজ গরুর হাটে পার্কিং, সমিতি ও ‘ভিটি’ নাম করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদারের নির্ধারিত হাসিলের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
রবিবার সরেজমিনে হাট ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা যায়, পার্কিংয়ের নামে ছোট ট্রাক ও নসিমন থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি ট্রাক থেকে ১০০ টাকা এবং বড় ট্রাক থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ জন্য কেউ কেউ রশিদ বইও ব্যবহার করছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সমিতির নামে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গরু বিক্রি হোক বা না হোক, প্রতিটি গরুর জন্য ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ইজারার নির্ধারিত খরচের বাইরে এসব টাকা নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
হেমায়েতপুর থেকে আসা ব্যাপারী কাইয়ুম মণ্ডল বলেন, “ট্রাকের জন্য দেড়শ টাকা দিতে হয়। এরপর সমিতির নামে আরও দুইশ টাকা নেওয়া হয়।”
সাভার থেকে আসা সাইদুল মিয়া জানান, “টাকা না দিলে গরু গাড়িতে তোলা যায় না। গরু তুলে হরগোজ উচ্চ বিদ্যালয় পার হওয়ার পর আরেকটি চক্র গাড়ি থামিয়ে আবার টাকা নেয়।”
তিল্লি এলাকার মইনুল বলেন, “একটি বাছুর কিনে হাসিল দিয়েছি। পরে অটোতে বাড়ি নেওয়ার সময়ও ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এটা কিসের টাকা, কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারেনি।”
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে টাকা আদায় চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একজন ইসরাফিল দাবি করেন, এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়।
পদে পদে এই অতিরিক্ত আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছে, এভাবে চলতে থাকলে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এই ঐতিহ্যবাহী হাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ইজারার বাইরে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।