আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটে হেঁটে বেড়াই—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করি, অনলাইনে কেনাকাটা করি বা শুধু সার্চ করি। কিন্তু এই প্রতিটি কার্যকলাপেই অদৃশ্যভাবে জমে থাকে আমাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। অনেকেই মনে করেন একটি পোস্ট ডিলিট করলে সব মুছে যায়, কিন্তু বাস্তবে ইন্টারনেট খুব কমই কিছু পুরোপুরি ভুলে যায়।
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট দুই ধরনের: সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়।
আজকের ডিজিটাল অর্থনীতিতে তথ্যই শক্তি। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট সাজায়। আপনি কী পছন্দ করেন, কোথায় ঘুরেন, কী কিনতে চান—এই তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে মূল্যবান। ফলে একটি পণ্য সার্চ করার পর হঠাৎ করে বিভিন্ন সাইটে সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে শুরু করলে এটি কাকতালীয় নয়, এটি আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের প্রতিফলন।
সমস্যা শুরু হয় যখন তথ্য ভুল হাতে পড়ে। ডেটা ব্রিচ বা হ্যাকিংয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে পরিচয় চুরি, প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি পুরোনো কোনো পোস্টও ভবিষ্যতে চাকরি বা সামাজিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের আরেকটি দিক হলো প্রোফাইলিং। অ্যালগরিদম আপনার আচরণের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে আপনার সামনে কী তথ্য আসবে তা নির্ধারণ করে। ফলে অনলাইন অভিজ্ঞতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলেও, সীমাবদ্ধও হতে পারে।
সমাধানও আছে। সচেতনতা প্রথম পদক্ষেপ।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শেয়ার করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—“এটি কি ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?”
সবশেষে বলা যায়, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পুরোপুরি মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যত বেশি সচেতন হব, তত কম অপ্রয়োজনীয় ছায়া ইন্টারনেটে থাকবে। প্রযুক্তির এই যুগে নিজের তথ্যের দায়িত্বও নিজের। কারণ অনলাইনে ফেলে আসা পদচিহ্ন অনেক সময় আমাদের ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।